সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, আটটি বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর ও ১৮৫ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো বিদ্যালয়েই মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান করা হয় না। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক এটুআই (এক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা যায়, ২০১১ সালে এটুআই প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ২০১২ সালে প্রথম পর্যায়ে দেশের সব উপজেলার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারজন করে শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি ইন এডুকেশন) বিষয়ে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে প্রতি উপজেলার পাঁচটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিনজন করে শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এ বিষয়ে। পরের বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতা আরো বাড়ানো হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই প্রকল্পের আওতায় গফরগাঁও উপজেলার ২৩৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৭৫টিতে ল্যাপটপ ও ১৭৫টির মধ্যে আটটি বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর দেয়। আর মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করার জন্য এই ১৭৫টি বিদ্যালয়ের ১৮৫ জন শিক্ষককে আইসিটি ইন এডুকেশনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রজেক্টর পাওয়া আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিতেও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয় না। আর প্রজেক্টর না পাওয়ায় ১৬৭টি বিদ্যালয়ের ল্যাপটপগুলো কোনো কাজেই লাগছে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করার সময় মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদান বিষয়ে কখনো খোঁজখবর নেন না বা চাপ দেন না। ফলে প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। গফরগাঁও ইসলামিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, সুরক্ষিত কক্ষ না থাকায় মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। এক অভিভাবক বলেন, ‘যদি মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান না-ই হয় তাহলে ঘটা করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর বিতরণ আর শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে সরকারের লাখ লাখ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূরুল ইসলাম বলেন, ল্যাপটপ দেওয়া বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া উপযোগী সুরক্ষিত কক্ষ না থাকায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। প্রজেক্টর দেওয়া আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও একই অবস্থা। এর মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রজেক্টর নষ্ট হয়ে গেছে। তা ছাড়া এ বিষয়ে শিক্ষকদের ১২ দিনের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয়। প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেক শিক্ষক ল্যাপটপ চালাতেই পারেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প এটুআই অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন